Advertisement
অন্যান্য টপিকইসলামিক খবরইসলামিক ঘটনাইসলামিক ছবিইসলামিক ভিডিওইসলামের পঞ্চস্তম্ভ

এখনো সময় আছে, নিজেকে শুধরে নিন, আ….

Advertisement

এখনো সময় আছে, নিজেকে শুধরে নিন, আ….

ইবনে উমর (রাঃ) বলেন, এক-দুইবার বা পাঁচ-সাতবার

নয়, বরং এর চেয়েও বেশীবার আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ

আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, বনী ইসরাইলে

কিফল নামে এক ব্যক্তি ছিল। সে কোন গুনাহের কাজকে

ছাড়ত না। একবার এক মহিলা (অভাবে পড়ে) তার কাছে

আসলে, সে রান্ডিচারের শর্তে তাকে ষাট দিনার (স্ব)

দেয়। যখন সে ঐ মহিলার সাথে কলকাজ করতে উদ্যত হলো,

তখন মহিলাটি (আল্লাহর ভয়ে) প্রকম্পিত হয়ে কেঁদে ফেললা

লোকটি বললঃ কাদছ কেন? আমি কি তোমাকে খবরদী

করেছি?

মহিলাটি বললঃ না, আমি এ আনারের কাজ কখনো করিনি। আজ কেবল অভাবের তাড়নায় পড়ে এতে রাধা হচ্ছি। লোকটি বললঃ অভাবের তাড়নায় পড়েই তুমি এসেছ

অথচ কখন করনি? যাও তোমাকে ছেড়ে দিলাম।

দিনারগুলোও তোমারই সে আরো বললঃ আল্লাহর কসম!

এরপর আর কখনো আমি আল্লাহর নাফরমানী করব না।

পরে এ রাতেই কিফল মারা যায়। সকালে তার ঘরের দরজায়

লেখা ছিল। “আল্লাহ তাআলা কিফলকে মাফ করে

দিয়েছেন।”

(জামে তিরমিথি, হাদিস নং- ২৪৯৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস

আল্লার রাসূল সাল্লাল্লফ আলাইতি ওয়াসাল্লামের একজন

রাম থা (Tha’laba, বাংলা অন

বলা হয়। ত্রি ফোল বছর বয়স। রাসূল (সা) এর

জন্য বার্তাবাহক হিসেবে এখানে সেখানে ছুটোছুটি করে

বেড়াতেন তিনি। একদিন উনি মদীনার পথ ধরে চলছেন

এমন সময় একটা বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময়

তার চোখ পড়ল দরজা খুলে থাকা এক ঘরের মধ্যে। ভিতরে

আসলখানায় একজন মহিলা গোসলরত ছিলেন, এবং

বাতাসে সেখানের পদা উড়ছিল, তাই থা’লাবার চোখ

মহিলার উপর যেয়ে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে উনি দৃষ্টি নামিয়ে

কিন্তু থা’লাবার মন এক গভীর অপরাধবোধে ভরে চাল। প্রচন্ড

দুঃখ তাকে আচ্ছাদন করল। তার নিজেকে মুনাফিকের মত

লাগছিল। তিনি ভাবলেন, কিভাবে আমি রাসূল (সা) এর

সাহাবা হয়ে এতোটা অপ্রীতিকর কাজ করতে পারি। মানুষের

গোপনীয়তাকে নষ্ট করতে পারি? যেই আমি কিনা রাসুল (সা)

এর বার্তা বাহক হিসেবে কাজ করি, কেমন করে এই ভীষণ

আপত্তিজনক আচরণ তার পক্ষে সম্ভব তাঁর মন আল্লাহর

ডায় কাতর হয়ে গেল। তিনি ভাবলেন, না জানি আল্লাহ

সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমার এমন আচরণের কথা বাসূল

সা. এর কাছে প্রকাশ করে দেয়া ভায়, রাসূল (সা) এর মুখোমুখি

হওয়ার লজ্জায়, তিনি তৎক্ষণাৎ ঐ স্থান থেকে পালিয়ে

তোলেন।

প্রভার আনকদিন চলে গেল। রাসূল সাল্লাল্লাহ ওয়ালাইটি

অন্যান্য সাহাবাদেরকে থালাবার কথা জিজ্ঞেস

করতেই থাকতেন। কিন্তু সবাই জানাল কেউই থালারা ক

দেখেনি। এদিকে রাসূল সা এর দুশ্চিন্তা কমেই বাড়ছিল। তিনি

উমর (রা), সালমান আল ফারিসি সহ আরো কিছু সাহাবাদের

পাঠালেন খাবার খোঁজা আনার জন্য। মদীনা তর তর করে

খুঁজেও থা’লাবার দেখা মিলল না। পরে মদীনার একেবারে

সীমানাবর্তী একটা স্থানে মক্কা ও মদীনার মধ্যখানে অবস্থিত

পর্বতময় একটা জায়গায় পৌঁছে কিছু বেদুঈনের সাথে দেখা

হল তাদের। দেখানে এসে তারা থালাবার সম্পর্কে খোঁজ খবর

নিতে শুরু করলেন। ‘তোমরা কি লম্বা, তরুণ, কম বয়সী

একটা ছেলেকে ওদিকে আসতে দেখেছ?

বেদুঈনগুলো মেষ চড়াচ্ছিল। তারা জবাব দিল, সে খবর তারা

জানেনা, তার তারা জিজ্ঞেস করল, তোমরা কি কন্দনরত

বালকের সন্ধানে এসেছ? একথা শুনে সাহাবীরা আগ্রহী

উঠলেন এবং তার বর্ণনা জানতে চাইলেন। উত্তরে ওরা বলল,

আমরা প্রতিদিন দেখি মাগরিবের সময় এখানে একটা ছেলে

আসে, সে দেখতে এতো লম্বা, কিন্তু খুব দুর্বল, সে শুধুই কাদতে

থাকে। আমরা তাকে খাওয়ার জন্য এক বাটি দুধ দেই, সে

দুধের বাটিতে চুমুক দেয়ার সময় তার চোখের পানি টনট

করে পড়ে মিশে যায় দুধের সাথে, কিন্তু সেদিকে তার হুঁশ

থাকেনা। তারা জানালো চল্লিশ দিন যাবৎ ছেলেটা এখানে

আছে। একটা পর্বতের হওয়ার মাধ্য সে থাকে, দিনে একবারই

সে নেমে আসে, কাদতে কাদতে; আবার কাঁদতে কাঁদতে,

আল্লাহর কাছে সবদা ক্ষমা প্রার্থনা করতে করতে উপরে চলে যায়। সাহাবারা বর্ণনা শুনেই বুঝলেন, এ থালারা না হয়ে আর যায়

তবে তাঁরা উপরে যেয়ে থা’লাবা ভড়কে দিতে চাচ্ছিলেন না,

এজন্য নিচেই অপেক্ষা করতে লাগলেন।

যথাসময়ে প্রতিদিনের মত আজও খালারা ক্রন্দনরত অবস্থায় নেমে আসলেন, তাঁর আর কোনদিকে খেয়াল নাই। কী দুর্বল শরীর হয়ে গেছে তাঁরা বেদুঈনদের কথামত তারা দেখতে পেলেন, থা’লাবা মুখের বাটিতে হাতে কাদছে, আর তার অশ্রু মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। তাঁর চেহারায় বিষাদের চিহ্ন স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাচ্ছে

সাহাবারা তাকে বললেন, আমাদের সাথে ফিরে চল

অথচ খালারা যেতে রাজি হচ্ছিলেন না। তিনি বারবার

সাহাবাদেরকে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন, আল্লাহ কি আমার

মুনাফেকী বিষয়ক কোন সুরা নাবিল করেছে?

সাহাবারা উত্তরে বললেন, না আমাদের জানামতে এমন কোন

আয়াত নাযিল হয় নাই।’

উমর (রা) বললেন, রাসূল (সা) আমাদেরকে তোমাকে নিয়ে।

যাওয়ার জন্য পাঠিয়েছেন। তুমি যদি এখন যেতে রাজি না

২০, তাহলে তোমাকে আমরা জোর করে ধরে নিয়ে যাব।

রাসূল (সা) এর কথা অমান্য করবেন এমন কোন সাহাবা ছিল

নাহ। কিন্তু থালারা এতোটাই লজ্জিত ছিলেন যে ফিরে যেতে

চাচ্ছিলেন না। এরপর সাহাবারা তাকে রাসুল (সা) এর কাছে

মদীনায় নিয়ে আসেন।

মানবী (সা) এর কাছে এসে থালারা আবারও একই প্রশ্ন করে,

আল্লাহ কি আমাকে মুনাফিক্বদের মধ্যে অন্তর্গত করেছেন

অথবা এমন কোন আয়াত নাযিল করেছেন যেখানে বলা

আমি মুনাফির রাসূল (সা) তাকে নিশ্চিত করলেন যে এমন

কিছুই নাযিল হয়নি। তিনি বালাবার দুর্বল পরিশ্রান্ত মাথাটা

নিজের কোলের উপর রাখলেন। খালারা কাদতে কাদতে বলে

উঠলেন, হে আল্লাহর রাসূল, এমন গুনাহগার ব্যক্তির মাথা

আপনার কোল থেকে সরিয়ে দিন। উনার কাছে মনে হচ্ছিল যেন সে এসব প্রশ্নের যোগা নাহ।। রাসূল সাল্লাল্লা আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সান্ত্বনা দিতেই থাকলেন। আল্লাহর রহমত আর দয়ার উপর ভরসা করতে

বললেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে বললেন। এমন সময়

थालावा दलालन

জে আল্লাহর রাসূল আমার এমন মনে হচ্ছে যেন আমার হাড়

আর মাসের মাঝখানে পিঁপড়া হেঁটে বেড়াচ্ছেন

রাসূল (সা) বললেন, ‘ওটা হল মৃত্যুর ফেরেশতা। তোমার

থালারা শাহাদাহ বলতে থাকলেন, আল্লাহ ছাড়া ইবাদাতের যোগা আর কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহ আলাইি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল উনি শাহাদাহ বলতে থাকলেন… বলতেই থাকলেন….

এমনভাবে তাঁর শরীর থেকে বের হয়ে গেল।

() থলাकে গসল করিয়ে জানাজারপরকর

দিতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আরো অনেক সাহারা খ করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। মহানবী (সা) পা টিপে টিপে অনেক সাবধানে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। উমর রাদিয়ালাহু আনহু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, আপনি এভাবে কেন হাঁটছেন যেন ভিড়ের মাঝে হেঁটে চলেছেন কতো রাস্তা

ফাঁকা পরে আছে, আপনি আরাম করে কেন চলছেন না ইয়া

উত্তরে রাসূল (সা) বললেন, ’15 উত্তর, আমাকে অনেক

সাবধানে চলতে হচ্ছে। সমস্ত রাস্তা ফেরেশতাদের দ্বারা করে

গেছে। থা’লাবার জন্য এতো ফেরেশতা এসেছে যে আমি

ঠিকমত হাঁটার জায়গা পাচ্ছি না।

আল্লাহ

এই সেই বাংলাবা যে ভুলক্রমে একটা ভুল করার জন্য এতো

প্রায়শ্চিত্য করেছেন। গুনাহর কাজ করা তো দূরের কথা,

শুনা না করেও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে চেয়ে ব্যাকুल

হয়েছেন। কত উঁচু ছিলেন তিনি আল্লাহর চোখে যে তাকে নেয়ার জন্য ফেরেশতাদের আগমনে রাস্তা ভরে গিয়েছিলা এই সব ফেরেশতারা নেমে এসেছে শুধু থা’লাবার জন্য, তাঁর জন্য দুআ করার জন্য, তাকে নিয়ে যাবার জন্য। আর আমরা সারাদিন জোন না কোন এতো ভুল করেও এতো গুনাহ কারও অনুশোচনা করি না। উলটা আমাদের পছন্দ মত কিছু না হলেই আল্লাহর আদেশের উপর অসন্তোষ প্রকাশ করতে থাকি, জীবন নিয়ে নালিশ করতে থাকি।

একটা তাদীস আছে, মু’মিন বান্দার কাছে তার গুনাহগুলো

এমন যেন এখনই পাহাড় ভেজে তার মাথার উপর পড়বে; আর

একজন দুর্বৃত্তকারীর কাছে গুনাহ এরকম যে সাছি এসে তার নাকের উপর উড়াউড়ি করছে, আর সে হাত নাড়িয়ে সেটা সরিয়ে দিল।

[বুখারি, বইঃ৭৫, হাদীস নং ৩২০]

আমরা আমাদের গুনাহগুলোকে দেখেও না দেখার ভান করে। স্বীকার করতে চাইনা। কতো রকম যুক্তি দিয়ে আি করার চেষ্টা করি। একটু ফ্যাশন, শখ, মনের ইচ্ছা দূর, মানুষের সামনে বড় হওয়া, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার

জন্য আমরা গুনাহ-র কাজে জড়িয়ে পরি। কিন্তু আল্লাহর কাছে বিনয়ের সাথে ক্ষমা চাওয়ার কথা ভাবতে পারিনা। আমাদের যুক্তি, অহংকার, শয়তানের মতই আমাদেরকে ক্ষমা প্রার্থনা থেকে বিরত রাখে। কিয়ামতের দিন এক আল্লাহর রহমত আর দয়া ছাড়া কিছুই আমাদেরকে আগুন থেকে বাঁচাতে পারবে না। জান্নাত তাদের জন্যই যারা আল্লাহ কাছে মাথা নত করে। আত্মসমর্পণ করে পূর্ণভাবে। নিজের ইচ্ছা, অহস্র বোধের কাছে মাথা নত করেনা। তাই ঈমানদার ব্যক্তিই বিনয়ী। তার রবের সামনে কাদতে সে লজ্জা পায় না।

ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে কুণ্ঠাবোধ করে না। সততার সাথে

চেয়ে দৃঢ়ভাবে সেই কাজ থেকে বিরত থাকে।

আল্লাহ সুবহানা ওয়া তাআলা বলেন, ‘যে তওবা করে এবং

ঈমান আনে ও গুণা-পবিত্র ক্রিয়াকর্ম করে। সুতরাং তারাই,

আল্লাহ তাদের মন্দকাজকে সৎকাজ দিয়ে বদলে দেবেন।

আর আল্লাহ সতত পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button