Advertisement
অন্যান্য টপিকইসলামিক খবরইসলামিক ঘটনাইসলামিক ছবি

ঘটনাটি পড়ুন আপনার ঈমানকে বৃদ্ধি করবে –

ঘটনাটি পড়ুন।আপনার ইমান বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে ইনশাল্লাহ

Advertisement

একদা এক মেয়ে খুব বিপদের মুখে পড়ে বিপদটা এমন যে সে তার মামারবাড়ি যাবে যাত্রাপথে দেখল দুই গ্রামে ঝগড়া হচ্ছে।এমন ঝগড়া যেখান থেকে সে সামনেও যেতে পারছেনা আবার নিজ বাড়িতেও ফিরতে পারছেনা।দুই গ্রাম তাদের রাস্তা বন্ধ করে দেয়।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে মেয়েটি কি করবে বুঝতেছেনা সামনেই একটা মসজিদ ছিল। দেখতে দেখতে রাত হয়ে আসছে। মুসল্লি গন এশার সালাত আদায় করে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। তখন মেয়েটি উপায়ন্তর না দেখে মসজিদের কাছে যায় আর ইমামসাহেবকে বলে হুজুর আমিতো মামারবাড়ি যাবো কিন্তু এই ঝগড়ার জন্য আমি যেতেও পারছিনা আবার নিজ বাড়িতেও ফিরতে পারছিনা।অনুগ্রহ করে আজ রাতটা যদি এই মসজিদের এককোণায় আমায় একটু জায়গা দেন তবে আমি রাতটা পার করে কাল সকালেই চলে যাব।

হুজুর বললেন না না এ হয় না।সকালে যখন সবাই নামায পড়তে আসবে তারা আপনাকে দেখে অনেক খারাপ চিন্তা করতে পারে।আমি অনুমতি দিতে পারবো না।মেয়েটি বলল আপনি যদি আমায় অনুমতি না দেন তবে আমি এক চিৎকার দিয়ে সব মানুষ এক করে আপনার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ আনবো।

বেচারা হুজুর উপায় না দেখে তাকে মসজিদের এককোণায় থাকার ব্যবস্থা করে দেয়।রাত ঘনিয়ে আসল ইবলিশ শয়তান হানা দিল হুজুরকে কুবুদ্ধি দেওয়ার জন্য।হুজুরের মনে নানা খারাপ চিন্তা ঢুকানোর চেস্টা করে গেল।

শয়তান বলছে হুজুর এখানে তো কেউ নেই আর মেয়েটি যুবতি সুন্দরি।হুজুর বললেন না না না আমার আল্লাহ্‌ দেখছেন। শয়তান কি হাল ছাড়ার?সে তার চেস্টা চালিয়ে গেল।হুজুর শয়তানের নানা কুবুদ্ধি শুনে অস্থির হয়ে উঠলো এবং শয়ন থেকে উঠে ওযু করে আসেন সেখানেও শয়তান বলে ওযুখানা নয় ওইদিকে চলুন হুজুর।

হুজুর তার কথায় কান না দিয়ে ওযু করে জায়নামাজে দাঁড়ায় এবং ২রাকাত নামায পড়েন।এতেও শয়তান বাধা দেয়।হুজুর এরপরে কোরআন নিয়ে পড়তে আরম্ভ করেন।এভাবেও যখন হচ্ছেনা ইবলিশ শয়তান তার ইমানকে নরম করার জন্য ও পাপ করার জন্য বারবার বাধ্য করছে।

হুজুর আর নিজেকে ঠিক রাখতে না পেরে একটা মোমবাতি জ্বালান এবং নিজের আঙুল আগুনের মুখে ধরে রাখেন।তার দুচোখ জুড়ে অশ্রুঝরা বইছে। এভাবে রাত অতিবাহিত হয়।ফজরের ওয়াক্ত আরম্ভ হওয়ার সময় হয়ে গেছে।

হুজুর তখন মেয়েটির কাছে এসে ডেকে বলেন বোন উঠুন ফজরের ওয়াক্ত হয়ে গেছে অনুগ্রহ করে আপনি স্থান ত্যাগ করুন।মুসল্লিগনদের আশার সময় হয়ে গেছে।

তখন মেয়েটি উঠে বলে হুজুর আমি সারারাত আপনার অবস্থান দেখেছি।আমি দেখেছি আপনার নামায,আমি দেখেছি আপনার তেলায়ত করা,আমি দেখেছি আপনার আঙুল পোড়ানো।আপনি চাইলে তো আমার সতীত্ব নষ্ট করতে পারতেন।কিন্তু আপনি নিজেকে পোড়ালেন কেন হুজুর?

জবাবে হুজুর বললেন বোন আমি যদি তোমার চরিত্রে দাগ দেই তবে কাল কেয়ামতের দিনে এর জবাব আমায় দিতে হবে।মহান রব্বুল আল আমিন আমায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করবেন।

যার আগুন হবে দুনিয়ার আগুনের ৭০গুন।সেই আগুন সহ্য করার ক্ষমতা আমার নেই বোন।এজন্যই আমি দুনিয়ায় নিজেকে পুড়িয়েছি যাতে জাহান্নামের ৭০গুন অধিক আগুন আমায় স্পর্শ না করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button