Advertisement
অন্যান্য টপিকইসলামিক খবরইসলামিক ঘটনানবীদের জীবনী

মক্কা বিজয়ের যুদ্ধ পর্ব ৪

ইসলামী বাহিনী মক্কার পথে (الْجَيْشُ الْإِسْلاَمِيْ يَتَحَرَّكُ نَحْوَ مَكَّةَ):

৮ম হিজরী ১০ই রমাযান নাবী কারীম (সাঃ) মক্কা অভিমুখে যাত্রা করেন। তাঁর দশ হাজার সাহাবী (রাঃ)-এর এক বাহিনী। এ সময় মদীনার প্রশাসনিক দায়িত্ব অর্পণ করা হয় আবূ রুহম গিফারী (রাঃ)-এর উপর।

Advertisement

জুহফাহ কিংবা তার কিছু আগে নাবী কারীম (সাঃ)-এর চাচা আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাত হয়। ইসলাম গ্রহণ করে স্বীয় পরিবার পরিজনসহ তিনি মদীনা হিজরত করে যাচ্ছিলেন। আবার আবওয়া নামক স্থানে নাবী কারীম (সাঃ)-এর চাচাতো ভাই আবূ সুফইয়ান বিন হারিস এবং ফুফাতো ভাই আব্দুল্লাহ বিন উমাইয়ার সঙ্গে সাক্ষাত হয়। তাদের উভয়কে দেখে নাবী কারীম (সাঃ) মুখ ফিরিয়ে নেন। কারণ এরা উভয়েই নাবী কারীম (সাঃ)-কে দারুণ দুঃখ কষ্ট দিয়েছিল এবং তাঁর নামে কুৎসা রটনা করেছিল। এ অবস্থা প্রত্যক্ষ করে উম্মু সালামাহ (রাঃ) আরয করেন, এমনটি হওয়া উচিত নয় যে, আপনার চাচাতো এবং ফুফাতো ভাই আপনার নিকট সব চেয়ে বেশী হতভাগ্য হবে। এদিকে আলী (রাঃ) আবূ সুফইয়ান বিন হারিসকে শিখিয়ে দিলেন যে, তুমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সম্মুখে গিয়ে সে কথা বল যা ইউসুফের ভাইয়েরা তাঁকে বলেছিলেন।

‏{‏قَالُوْا تَاللهِ لَقَدْ آثَرَكَ اللهُ عَلَيْنَا وَإِن كُنَّا لَخَاطِئِيْنَ‏}‏ ‏[‏يوسف‏:‏91‏]‏

‘আল্লাহর কসম! আল্লাহ আপনাকেআমাদের উপর সম্মানিত করেছেন এবং নিশ্চয়ই আমরা দোষী ছিলাম।’ [ইউসুফ (১২) : ৯১]

কারণ, নাবী কারীম (সাঃ) এটা পছন্দ করবেন না যে, অন্য কারো উত্তর তাঁর চাইতে উত্তম ছিল। অতএব, আবূ সুফইয়ান তা’ই করল এবং উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাৎক্ষণিকভাবে বললেন,

{‏قَالَ لاَ تَثْرَيبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ يَغْفِرُ اللهُ لَكُمْ وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِيْنَ‏}‏ ‏[‏يوسف‏:‏92‏]‏

‘অদ্য তোমাদের উপর কোন নিন্দা নেই। আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তিনি দয়াশীলদের চাইতেও অধিক দয়ালু।’ [ইউসুফ (১২) : ৯২]

এ প্রেক্ষিতে আবূ সুফইয়ান কবিতার নিম্নরূপ কয়েকটি চরণ আবৃত্তি করে শোনাল,

لعغمرك إني حين أجمل راية        لتغلب خيل اللات خيل محمد

لكالمدلج الحيران أظلم ليله         فهٰذَا أواني حين أهدى فأهتدي

هداني هاد غير نفسي ودلني       عَلٰى الله من طردته كل مطرد

অর্থ :  ‘তোমার জীবনের কসম! সেই সময় আমি এ জন্য পতাকা উত্তোলন করেছিলাম যে, লাতের ঘোড়সওয়ার মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর ঘোড়সওয়ারের উপর বিজয়ী হবে, তখন আমার অবস্থা সে রাত্রিকালের প্রবাসীর ন্যায় ছিল যে অন্ধকারে দিগ্বিদিক হারিয়ে ঘুরতে থাকে। কিন্তু এখন সময় এসে গেছে যে, আমাকে পথ দেখানো হবে এবং আমি হিদায়াত লাভ করব। আমাকে আমার আত্মার পরিবর্তে একজন পথ প্রদর্শক হিদায়াত করেছেন এবং সে ব্যক্তিই আমাকে আল্লাহর পথের কথা বলেছেন যাকে আমি প্রতি মুহূর্তে তিরস্কারের মাধ্যমে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম।

এ কবিতা শ্রবণান্তে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) তার বক্ষে একটি থাবা মারলেন এবং বললেন, ‘প্রতি মুহূর্তে তুমি আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছিলে।[1]

মাররুয যাহরান নামক স্থানে ইসলামী সৈন্যদের শিবির স্থাপন (الْجَيْشُ الْإِسْلَامِيْ يَنْزِلُ بِمَرِّ الظَّهْرَانِ):

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নিজ সফর অব্যাহত রাখলেন। এ সফর কালে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এবং সাহাবীগণ (রাঃ) রোযাবস্থায় ছিলেন। কিন্তু উসফান এবং কুদাইদের মধ্যবর্তী স্থানে কাদীদ নামক ঝর্ণার নিকট পৌঁছে রোযা ভঙ্গ করলেন।[1] সাহাবীগণও রোযা ভঙ্গ করলেন। এরপর আবার সফর অব্যাহত রাখলেন, এভাবে রাত্রির পূর্বভাগ সফর করে মাররুয যাহরান ফাত্বিমাহ উপত্যকায়- পৌঁছে অবতরণ করলেন। সেখানে তাঁর নির্দেশক্রমে লোকেরা পৃথক পৃথক আগুন জ্বালাল। এভাবে দশ হাজার স্থানে আগুন জ্বালানো হয়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) উমার বিন খাত্তাব (রাঃ)-কে প্রহরী নিযুক্ত করেন।

আবূ সুফইয়ান নাবী কারীম (সাঃ)-এর দরবারে (أَبُوْ سُفْيَانَ بَيْنَ يَدَي رَسُوْلِ اللهِ ﷺ‏):

মাহরুয যাহরানে শিবির স্থাপনের পর আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাদা খচ্চরের উপর আরোহণ করে বের হলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল যদি উপযুক্ত কোন লোক পাওয়া যায় তাহলে তার মাধ্যমে কুরাইশদের নিকট এ খবরটি পাঠানো যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর মক্কা প্রবেশের পূর্বেই তারা যেন নাবী কারীম (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয় এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে।

এদিকে আল্লাহ তা‘আলা কুরাইশদের নিকট খবর পাঠাবার সমস্ত পথ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এ কারণে এ সংক্রান্ত কোন খবরাখবরই তাদের নিকট পৌঁছেনি। তবে তারা অত্যন্ত ভীত ও আতঙ্কিত অবস্থায় কাল যাপন করছিল এবং আবূ সুফইয়ান বারবার বাইরে খবরাখবর নেয়ার চেষ্টা করছিল। ঐ সময় সে এবং হাকীম বিন হিযাম এবং বুদাইল বিন ওয়ারাক্বা খবর জানাবার জন্য বাহিরে গিয়েছিল।

আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহর কসম! আমি রাসূলে কারীম (সাঃ)-এর খচ্চরের উপর সোওয়ার হয়ে যাচ্ছিলাম এমন সময় আবূ সুফইয়ান এবং বুদাইল বিন ওয়ারকার কথোপকথন আমার কর্ণগোচর হল। আবূ সুফইয়ান বলল, আল্লাহর কসম! অদ্য রাত্রির মতো এত অধিক আগুন এবং সৈন্য আমি ইতোপূর্বে কখনো দেখি নি।

উত্তরে বুদাইল বলল, ‘আল্লাহর কসম! এরা বনু খুযা’আহ। যুদ্ধ তাদের রাগান্বিত করেছে।’

আবূ সুফইয়ান বলল, ‘বনু খুযা’আহ সংখ্যায় কতই না অল্প এবং নিকৃষ্ট সৈন্যবাহিনীতে এত লোকজন এবং এত আগুন তারা পাবে কোথায়?’

আব্বাস (রাঃ) বললেন, ‘আমি তাদের কথোপকথন শুনে সব কিছু বুঝে নিলাম এবং বললাম, ‘আবূ হানযালাহ না কি? সে আমার কণ্ঠস্বর চিনতে পেরে বলল, ‘আবূ ফযল না কি?’

আমি বললাম, হ্যাঁ’।

সে বলল, ‘কী ব্যাপার? আমার পিতামাতা তোমার জন্য উৎসর্গিত হোক ।’

আমি বললাম, ‘সেখানে লোকজনসহ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) রয়েছেন। হায় কুরাইশদের ধ্বংস! আল্লাহর শপথ!’

সে বলল, ‘এখন উপায় কী? আমার পিতামাতা তোমার জন্য উৎসর্গিত হোক ।’

আমি বললাম, ‘আল্লাহর কসম! তিনি যদি তোমাদের পেয়ে যান তাহলে গ্রীবা কর্তন করে ফেলবেন। অতএব, এসো আমার এ খচ্চরের পেছনে বসে যাও। আমি তোমাদেরকে রাসূলে কারীম (সাঃ)-এর নিকট নিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ অতঃপর আবূ সুফইয়ান আমার পিছনে উঠে বসল। তার অন্য দু’ বন্ধু ফিরে চলে গেল।

আব্বাস (রাঃ) বলছেন, ‘আমি আবূ সুফইয়ানকে নিয়ে চললাম। যখন কোন উনুনের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন সেখানকার লোকেরা বলছিলেন, কে যায়?’ কিন্তু পরক্ষণেই যখন দেখত যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর খচ্চর এবং আমি তার সোওয়ার তখন বলত যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর চাচা এবং তাঁর (নাবী কারীম (সাঃ)) খচ্চর। এভাবে চলতে চলতে যখন উমার বিন খাত্তাব (রাঃ)-এর উনুনের নিকট গেলাম, তিনি বললেন, ‘কে’? অতঃপর গাত্রোত্থান করে আমার নিকট আসলেন এবং আমার পিছনে আবূ সুফইয়ানকে দেখে তিনি বললেন, ‘আবূ সুফইয়ান

আল্লাহর দুশমন। যাক আল্লাহর অশেষ প্রশংসা যে কোন অঙ্গীকার কিংবা কৌশল ছাড়াই তাকে আমাদের মধ্যে পাওয়া গেছে।’ এ কথা বলার পর সেখান থেকে বের হয়ে তিনি দ্রুতপদে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর অবস্থান স্থলের দিকে এগিয়ে গেলেন। আমিও খচ্চরকে উত্তেজিত করে দ্রুত এগিয়ে চললাম।

আমি কিছুক্ষণ আগেই সেখানে গিয়ে পৌঁছলাম এবং খচ্চর পৃষ্ঠ থেকে অবতরণ করে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট উপবিষ্ট হলাম। ইতোমধ্যে উমার (রাঃ)-ও এসে পৌঁছলেন এবং বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! ইনি আবূ সুফইয়ান! আমাকে নির্দেশ দেয়া হোক , আমি তাঁর গর্দান কেটে ফেলি।’ তখন আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আমি তাঁকে আশ্রয় দিয়েছি। তারপরে আমি রাসূল (সাঃ)-এর নিকট বসে তাঁর মাথা ধরে বললাম, ‘আল্লাহর কসম! আমি ছাড়া অন্য কেউ আজ রাত্রে আপনার সাথে কানাঘুষা করবে না।’ এদিকে আবূ সুফইয়ান সম্পর্কে উমার (রাঃ) বারবার বলতে থাকলেন। তখন আমি বললাম, উমার (রাঃ) থাম, আল্লাহর কসম! এ যদি বনু আদী বিন কা‘ব গোত্রের লোক হত, তুমি এমন কথা বলতে না । উমার (রাঃ) বললেন, ‘আব্বাস তুমি থাম, আল্লাহর কসম! তোমার ইসলাম গ্রহণ আমার নিকট খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণের চেয়ে (সে যদি ইসলাম গ্রহণ করত) অধিক পছন্দনীয় ছিল। ইহার কারণ এই যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট তোমার ইসলাম গ্রহণ খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণের চেয়ে অধিক পছন্দনীয় ছিল।’

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, ‏‏(‏اِذْهَبْ بِهِ يَا عَبَّاسُ إِلٰى رَحْلِكَ، فَإِذَا أَصْبَحَتْ فَأْتِنِيْ بِهِ)‏ ‘আব্বাস একে (আবূ সুফইয়ানকে) নিজ তাঁবুতে নিয়ে যাও, প্রত্যুষে আমার নিকট নিয়ে এসো। নাবী কারীম (সাঃ) এ নির্দেশ মোতাবেক তাকে তাঁবুতে নিয়ে যান এবং সকালে নাবী কারীম (সাঃ)-এর খিদমতে হাযির করেন। তাঁকে দেখে তিনি (সাঃ) বললেন, ‏(‏وَيْحَكَ يَا أَبَا سُفْيَانَ، أَلَمْ يَأْنِ لَكَ أَنْ تَعْلَمَ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ‏؟‏‏)‏ ‘হে আবূ সুফইয়ান! তোমার উপর দুঃখ হচ্ছে এ জন্য যে, আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এ মহাসত্য উপলব্ধি করার সময় কি এখনো তোমার হয় নি?

আবূ সুফইয়ান বলল, ‘আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক । আপনি যে, কত সহনশীল, কত সম্মানিত এবং স্বজনরক্ষক! আমি বুঝে নিয়েছি যে, যদি অন্য কোন উপাস্য থাকত তাহলে এতদিন তা আমার কাজে আসত।’

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, ‏(‏وَيْحَكَ يَا أَبَا سُفْيَانَ، أَلَمْ يَأْنِ لَكَ أَنْ تَعْلَمَ أَنِّيْ رَسُوْلُ اللهُ‏؟‏‏)‏ ‘আবূ সুফইয়ান! তোমার জন্য সত্যিই দুঃখ হয়। এখনো কি তোমার বুঝবার সময় আসে নি যে, আমি সত্যিই আল্লাহর রাসূল (সাঃ) অর্থাৎ আমি যে সত্যিই আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এ সত্য উপলব্ধি করা কি এখনো তোমার পক্ষে সম্ভব হয় নি।’

আবূ সুফইয়ান বলল, ‘আমার মাতাপিতা আপনার উপর উৎসর্গিত হোক। আপনি কতইনা ধৈর্য্যশীল, কতইনা দয়ালু ও আত্মীয়তা সম্পর্ক স্থাপনকারী! কিন্তু ঐ ব্যাপারে এখনো কিছু না কিছু সংশয় তো আছেই। এ প্রেক্ষিতে আব্বাস (রাঃ) বললেন, ‘ওহে শোন! গ্রীবা কর্তনের পূর্বেই ইসলাম কবুল করে নাও এবং এ কথা স্বীকার করে নাও যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ উপাস্য হওয়ার যোগ্যতা রাখেনা এবং মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহর রাসূল (সাঃ)। আব্বাস (রাঃ)-এর এ কথার প্রেক্ষিতে আবূ সুফইয়ান ইসলাম কবুল করলেন এবং সত্যের সাক্ষ্য প্রদান করে কালেমা পাঠ করলেন।

আব্বাস (রাঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আবূ সুফইয়ান সম্মান প্রিয়, তাই  তাঁকে কোন সম্মান প্রদান করুন। নাবী কারীম (সাঃ) বললেন,

‏(‏نَعَمْ، مَنْ دَخَلَ دَارَ أَبِيْ سُفْيَانَ فَهُوْ آمْنٌ، وَمَنْ أَغْلَقَ عَلَيْهِ بَابَهُ فَهُوْ آمِنٌ، وَمَنْ دَخَلَ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ فَهُوَ آمِنٌ‏)‏‏.‏

‘ঠিক আছে, যে ব্যক্তি আবূ সুফইয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে সে আশ্রিত হবে এবং যে নিজ ঘরের দরজা ভিতর হতে বন্ধ করে নেবে সে আশ্রিত হবে এবং যে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করবে সেও আশ্রিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button