Advertisement
অন্যান্য টপিকইসলামিক ঘটনাইসলামের পঞ্চস্তম্ভকবর জীবনকোরআনফজিলত পূর্ণ দুয়া

মুসলিম হওয়ার শর্তাবলি – পার্ট -২

পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করা ছাড়া মুসলিম হওয়া যায় না

Advertisement
  • ঈমান সাব্যস্ত হওয়ার জন্য ইসলামের সব অকাট্য বিধান ও বিশ্বাসকে সত্য মনে করা এবং মন থেকে কবুল করা অপরিহার্য। এর কোনো একটিকে অস্বীকার করা বা কোনো একটির ওপর আপত্তি তোলাও ঈমান বরবাদ হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, ‘তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস করো আর কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করো? সুতরাং তোমাদের যারা এ রকম করে, তাদের একমাত্র পরিণাম পার্থিব জীবনে হীনতা এবং কিয়ামতের দিন তারা কঠিন শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে, তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আল্লাহ বেখবর নন। ’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ৮৫)

হ্যাঁ, শরিয়তের বিধি-বিধানকে সঠিক ও অবশ্যপালনীয় বলে স্বীকার করার পর পালনে ত্রুটি হলে তা গুনাহ, কুফর নয়। কারণ এই ব্যক্তি নিজেকে অপরাধী মনে করে। পক্ষান্তরে বিধানের ওপর বিরুদ্ধ প্রশ্ন বা আপত্তি করা সরাসরি আনুগত্যত্যাগ, যা সাধারণ অপরাধ নয়, বিদ্রোহ। এটা মানুষকে চিরজাহান্নামি সাব্যস্ত করে।

আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার মর্মকথা

ঈমানের সর্বপ্রথম রুকন হচ্ছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর স্বীকারোক্তি ও ঘোষণা; অর্থাৎ আল্লাহর ওপর ঈমান। আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব স্বীকার করা, একমাত্র তাঁকেই রব ও সত্য মাবুদ বলে মানা—এটিই হলো দ্বিনের মূল ভিত্তি। এর দাবি হচ্ছে, আল্লাহর সত্তা ও গুণসংশ্লিষ্ট আকিদা সঠিক হতে হবে—তিনিই এক ও অসীম, সুমহান, তাঁর মতো ও সমকক্ষ কেউই নেই। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন; সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী। ইবাদতের উপযুক্ত তিনিই। তাঁর কোনো স্ত্রী, সন্তানাদি ও মাতা-পিতা নেই। তিনিই সবার খালিক ও মালিক। তিনিই প্রতিপালক, রিজিকদাতা, মৃত্যু ও জীবনদাতা এবং পুনরুত্থানকারী। সুস্থতা-অসুস্থতা, ধনাঢ্যতা-দারিদ্র্য, লাভ-ক্ষতি শুধুই তাঁরই ক্ষমতাধীন। পথপ্রদর্শন, উপকার-অপকার, নিরাপত্তা ও রক্ষা একমাত্র তাঁরই হাতে। সম্মান ও লাঞ্ছনা তিনিই দেন। তিনি চিরঞ্জীব, তাঁর সত্তা অনাদি ও অনন্ত, সর্বজ্ঞানের অধিকারী, প্রজ্ঞাময়, পরাক্রমশালী, ন্যায়পরায়ণ, গৌরবময়, সর্বোচ্চ মর্যাদাবান ও প্রশংসিত, অসীম ইচ্ছাশক্তির অধিকারী, সৃষ্টি ও সৃজন তাঁর গুণ। আলিমুল গাইব, হাজির-নাজির, সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, সর্ববিষয়ে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী, সংকট মোচনকারী, অসীম দয়া ও কল্যাণময় এবং বিপদাপদে সাহায্যকারী। তিনি অধিক ধৈর্যশীল, সহিঞ্চু ও পরম ক্ষমাশীল। গোটা জগতের এক, অদ্বিতীয় স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রকও তিনিই।

  • আল্লাহর কোনো অংশীদার কিংবা পরামর্শক নেই। রুবুবিয়্যত ও উলুহিয়্যতের বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করা যাবে না। তাঁর বিশেষ হক ও একান্ত বৈশিষ্ট্যসমূহে কাউকে শরিক করা যাবে না। সাধারণ কার্যকারণ ও উপায়-উপকরণের ঊর্ধ্বের বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে না। তাঁর কাজে কারো দখল দেওয়ার অবকাশ নেই। বিধি-বিধান নির্ধারণ তাঁরই অধিকার। এতে কাউকে শরিক করবে না—না কোনো মতবাদকে, না কোনো নেতা বা দলকে, না রাষ্ট্র বা সম্প্র্রদায়কে। তিনি মালিকুল মুলক—রাজাধিরাজ। আহকামুল হাকিমিন—মহাবিচারক। তাঁর হুকুমের বিপরীতে অন্য কারো হুকুম কখনো মানা যাবে না; চাই সে শাসনকর্তা, মা-বাবা কিংবা গোত্রপতি অথবা নিজের প্রবৃত্তি হোক।

শিরকমিশ্রিত ঈমান আল্লাহর কাছে ঈমানই নয়

একমাত্র আল্লাহ তাআলাকেই পালনকর্তা ও সত্য মাবুদ বলে মানা, রুবুবিয়্যত ও উলুহিয়্যতের বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা। সর্ববিষয়ে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী এবং বিপদাপদে তাঁকেই একমাত্র ত্রাণকারী বিশ্বাস করবে। গোটা জগতের এক, অদ্বিতীয় স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রকও তিনিই। বিধি-বিধান নির্ধারণ তাঁরই অধিকার। তাঁর একান্ত বৈশিষ্ট্যসমূহে কাউকে শরিক করবে না—না কোনো মতবাদকে, না কোনো নেতা বা দলকে, না রাষ্ট্র বা সম্প্রদায়কে। মোটকথা, তাওহিদকে পূর্ণরূপে ধারণ করা ও শিরক থেকে পরিপূর্ণ বেঁচে থাকা ঈমানের সবচেয়ে বড় অংশ। আল্লাহর কাছে মুশরিকের ঈমান ঈমানই নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করতে এবং সালাত কায়েম করতে ও জাকাত দিতে। এটাই সঠিক দ্বিন। কিতাবিদের মধ্যে যারা কুফরি করে, তারা এবং মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে; তারাই সৃষ্টির অধম। ’ (সুরা : বায়্যিনাহ, আয়াত : ৫-৬)

ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান আনার মর্মকথা

ফেরেশতারা আল্লাহ তাআলার সম্মানিত সৃষ্টি। নূরের তৈরি। পুরুষও নন, নারীও নন। কাম, ক্রোধ, ক্ষুধা, রিপু ইত্যাদি থেকে মুক্ত। তাঁদের পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তানাদি নেই। তাঁরা আল্লাহ প্রদত্ত সীমায় বিপুল শক্তির অধিকারী। বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করতে পারেন। কখনো আল্লাহর হুকুমের অমান্য করেন না, বরং সর্বদা আল্লাহ প্রদত্ত কাজে নিমগ্ন। ফেরেশতাকুলের সর্দার হলেন জিবরাঈল (আ.)। (দেখুন—সুরা : নহল, আয়াত : ৪৯-৫০; সুরা : তাকবির, আয়াত : ১৯-২১)

আসমানি কিতাবের ওপর ঈমান আনার মর্মকথা

আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে মানুষের হিদায়াতের জন্য নবী-রাসুলদের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পক্ষ থেকে ছোট-বড় কিতাবও নাজিল করেছেন। সেগুলো আল্লাহ প্রদত্ত সত্য কিতাব, মানবরচিত নয়। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ চারখানা :

১. তাওরাত—হজরত মুসা (আ.)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল।
২. জাবুর—হজরত দাউদ (আ.)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল।
৩. ইনিজল—হজরত ঈসা (আ.)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল।
৪. আল-কুরআনুল কারিম, যা সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর নাজিল হয়েছে।
  • আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিলকৃত সব কিতাবের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব হচ্ছে ‘আল-কুরআনুল কারিম’। আল-কোরআন নাজিল হওয়ার পর আগের নবী-রাসুলদের সব কিতাব ও শরিয়ত রহিত হয়ে গেছে। কিয়ামত পর্যন্ত একমাত্র কোরআনের বিধানই বলবৎ থাকবে। (দেখুন—সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ৭৯; সুরা : নিসা, আয়াত : ৪৬)

আল-কোরআন ছাড়া পূর্বেকার সব কিতাবই কমবেশি শাব্দিক ও অর্থগত বিকৃত হয়েছে। একমাত্র কোরআনই কিয়ামত পর্যন্ত অবিকৃত ও নির্ভুল থাকবে, তাতে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হবে না। আল্লাহ তাআলা নিজেই কোরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। (দেখুন—সুরা : হিজর, আয়াত : ৯) কোরআনের ন্যায় কোনো কিতাব কোনো মাখলুক বানাতে পারবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button